
সিদ্ধিরগঞ্জে ১নং ওয়ার্ডে লিপি ওসমানের উঠান বৈঠক সফল করে
আওয়ামীলীগ নেতাদের মান বাঁচালেন সাবেক কাউন্সিলর ওমর ফারুক
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের মিজমিজি রেকমত আলী উচ্চ নিদ্যালয় মাঠে লিপি ওসমানের উঠান বৈঠকে বিপুল সংখ্যক নারী কর্মী সমাগম এবং উঠান বৈঠক সফল করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি মজিবুর রহমানসহ আওয়ামীলীগ নেতাদের মান বাচালেন ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুক। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান ও সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী এবং ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামের বাড়ি ১নং ওয়ার্ডে হওয়া সত্বেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপির উঠান বৈঠক ছিলো লোকজন শূন্য। উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপিসহ অন্যান্য অতিথিবৃনরা উপস্থিত হয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। উঠান বৈঠকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান ও সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী এবং ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম কোন লোকজন না নিয়ে একা একা চলে আসেন। এ সময় ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুক প্রায় ১ হাজার মহিলা নেতাকর্মী নিয়ে উঠান বৈঠকে হাজির হন। মুহুরর্তের মধ্যে দৃশ্যপট পাল্টে যায় উঠান বৈঠকের। বিপুল সংখ্যক মহিলা নেতাকর্মী নিয়ে উঠান বৈঠকে যোগদান করায় মাইকে বার বার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুককে উঠান বৈঠক সফল করে আওযামীলীগ নেতাদের মান রাখেছেন বলে ঘোষনা দেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু। তিনি ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডে মিজমিজি রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী এ উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি।
এসময় তিনি বলেন, এসময় পোড়া মানুষ পুড়তে পুড়তে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছে হয়ত। যারা আগুনে পুড়ে মরেছে শুধুমাত্র তারাই জানে এই যন্ত্রণা। কিছুদিন আগে এক শিশু বাসে ঘুমাচ্ছিল। সে জানত না পরের দিন সকালে সে উঠতে পারবে না৷ এই বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। কয়েকদিন আগে ট্রেনে আগুন দেয়া হল। চারজন মারা গেল। মা ও শিশু দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে পুড়ে মারা গেছে। একটাবার ভাবুন ওদের কতটা কষ্ট হয়েছে। আমরা আজ তাদের বিচার চাইতে এসেছি।
আমাদের ইয়াং ছেলেদের বিএনপির নেতারা ইউজ করছে৷ আপনারা ভাল থাকবেন। যে ছেলেদের আগুন দিতে পাঠান তাদের তো শাস্তি দেয়া হবে। তারা ভুগবে। আপনাদের তো কিছু হবে না। নিজেদের স্বার্থে আপনারা ওদের ব্যাবহার করছে। জনগণকে পুড়িয়ে তারা জনগণের জন্য আন্দোলন করছে। এটা কেমন আন্দোলন।
তিনি আরও বলেন, তারা নির্বাচনে আসত। দেখত জনগণ কী করে। চোখের সামনে চার বছরের বাচ্চাকে পুড়ে যেতে দেখে আমরা কী চুপ করে থাকবো। আমরা কী প্রতিবাদ করবো না। আপনাদের কাছে অনেক বড় অস্ত্র আছে, সেটা হচ্ছে ভোট।
তিনি বলেন, আপনাদের ভোটকেন্দ্রে দেখলে ওরা ভয় পাবে। আপনাদের অনুরোধ করছি কারণ এবার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারটা আলাদা। নৌকা মার্কায় ভোট দেয়া মানে ওদের চিরতরে প্রতিহত করা। মায়েদের কাছে বিচার দিতে চাই। ওরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে খেলছে। আমরা সে খেলার মাঠে আছি। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে সেই খেলায় আমরাও আছি। খেলা হবে ৭ জানুয়ারি।
আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহিম মেম্বারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি সাহাদাত হোসেন ভুঁইয়া সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, নাসিক ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামীলীগ নেতা হাজী ওমর ফারুক, কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফফর, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জ-আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী, মিজমিজি পাইনাদী রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজু ও আওয়ামীলীগ নেতা আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জের ২নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগ নেত্রী হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে পৃথক অন্যএকটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :